d9f1e98b34da9320dbd1cb25a8f61e28-vugar-husainzade

কম্পিউটার গেম খেলেও পাওয়া যায় কোচের চাকরি!

বিডিকষ্ট ডেস্ক

আরেকটু হলেই ইয়ুর্গেন ক্লপের কপালটা পুড়তে বসেছিল। গত অক্টোবরে লিভারপুলের কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন এই ক্যারিশমাটিক জার্মান কোচ। কিন্তু তাঁকে বেশ ‘শক্ত’ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে এমন একজন কোচের সঙ্গে, যিনি কিনা পোর্টসমাউথের মতো চতুর্থ স্তরের ক্লাবকে প্রিমিয়ার লিগে উঠিয়ে এনেছেন। চ্যাম্পিয়নও করেছেন। এমনকি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতিয়েছিলেন। ক্লপের একটাই স্বস্তি, অ্যাডাম নিল নামের সেই ‘বাঘা’ কোচের এত এত অর্জন সব কম্পিউটার গেম ফিফা ১৫-তে। এ কারণেই এত অভিজ্ঞতা থাকার পরও লিভারপুল আর ওমুখো হয়নি। একটা চিঠি লিখেই জানিয়ে দিয়েছে, ‘আপনার আবেদনের জন্য ধন্যবাদ। তবে এই মুহূর্তে আমরা বাস্তব জীবনে অভিজ্ঞ কাউকে চাচ্ছি।’

ব্যাপারটি এখন অনেকটা নিয়মিতই হয়ে গেছে। কোনো একটা ক্লাবের কোচের পদ খালি হয়, আর তাতে নিজের ‘অভিজ্ঞতা’র ভান্ডার নিয়ে হাজির হয়ে যান ফিফা গেমের তুখোড় কোচেরা। কিন্তু প্রায় সব সময়ই বিফল হয়ে ফেরত যেতে হয়েছে।
যতটুকু জানা যায়, সর্ব প্রথম এমন দুঃসাহসী আবেদন করা ‘কোচে’র নাম জন বলিয়ু। ২০০৬ সালে ইংলিশ ক্লাব মিডলসবরোর কোচের পদ থেকে ইংলিশ কোচ স্টিভ ম্যাকলারেন বিদায় নেওয়ার পর ক্লাবের চেয়ারম্যান স্টিভ গিবসনের কাছে জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দেন বলিয়ু। সঙ্গে দুর্দান্ত একটি চিঠি, যাতে ফুটবল ম্যানেজার গেমটিতে ২০০৫ সালের অর্জনের ফিরিস্তি তুলে ধরেছিলেন বলিয়ু। অর্জনগুলো বেশ ‘লোভনীয়’ই বটে – ডনকাস্টারের আক্রমণভাগের মূল তিন খেলোয়াড় হিসেবে বলিয়ু কিনে নিয়ে এসেছিলেন থিয়েরি অঁরি, ফার্নান্দো তোরেস ও রাউলকে (এমন অর্জন সমৃদ্ধ একজন কোচ এখন পেলে নিশ্চিত নিয়ে নিতেন চেলসি মালিক রোমান আব্রামোভিচ, তাঁর যে স্ট্রাইকার দরকার); রুশদেন এন্ড ডায়মন্ডস নামের এক ক্লাবকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন (ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থকেরা হয়তো একটা দীর্ঘশ্বাসই ফেলছেন); আর মাত্র আট বছরের মধ্যে নুনিয়াটন বরোকে কনফারেন্স নর্থ নামের প্রায় অপেশাদার লিগ থেকে ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপে উঠিয়ে এনেছিলেন।
বলিয়ুর যোগ্যতা এখানেই শেষ নয়। কোচিংয়ের পাশাপাশি ভূতত্ত্ব ও প্রত্নতত্ত্ব নিয়েও পড়াশোনা ছিল তাঁর। ভাবছেন এসবের সঙ্গে ফুটবলের সম্পর্ক কোথায়? তারও ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন বলিয়ু – সে সময়ে ইংলিশ ফুটবলে বেশ নাম করা অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাইকার মার্ক ভিদুকার নাকি মিশরীয় মৃৎশিল্প নিয়ে আগ্রহ ছিল। বলিয়ুকে কোচ করার পর ক্লাব যদি ভিদুকাকেও কিনে নিয়ে আসত মিডলসবরো, তাহলে অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলারটির সঙ্গে তো এ নিয়েও আলোচনা করতে পারতেন মিডলসবরো কোচ। খেলোয়াড়দের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে হবে না?
কিন্তু এত ‘বহুমুখী যোগ্যতা’ থাকার পরও বলিয়ুকে কোচ করেনি মিডলসবরো। ক্লাবটির চেয়ারম্যানের ফিরতি চিঠিটাও অবশ্য বেশ মজার ছিল। বলিয়ুকে না নেওয়ার কারণ হিসেবে লিখেছিলেন, ‘আপনি এখানে বেশিদিন টিকতে পারবেন বলে মনে হয় না। কারণ আপনার অবিশ্বাস্য মেধা দেখে ইউরোপের বড় বড় ক্লাব হয়তো আপনার পেছনে ছুটবে!’
বলিয়ু কিংবা অ্যাডাম নিলরা পারেননি। প্রায় এঁদের মতোই, প্রিমিয়ার লিগ ২০০০ ও ২০০১ ভার্সনের গেমটিতে সফল হয়েও কোচ না হওয়ার দুঃখ নিয়ে পুড়তে হয়েছে এ. হ্যাডিংটন নামের ভদ্রলোককেও। তিনি আবেদন করেছিলেন ওয়েস্ট হ্যামের কোচ হওয়ার, কিন্তু বিনীতভাবে সেটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ক্লাবটির চেয়ারম্যান। তাহলে ফিফা গেম খেলে সফল হয়েছেন কে? আদৌ কেউ কি হয়েছেন?
শুনলে আশ্চর্য হবেন, বাস্তব ফুটবলে আসলেই এমন একজন কোচ আছেন, যাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল শুধুই ফিফা ম্যানেজার গেমে কোচিং করানোর। ভুগার হুসাইনজাদে নামের এই অতি সৌভাগ্যবান ২০১২ সালে আজারবাইজানের ক্লাব এফসি বাকুর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সেটিও মাত্র ২১ বছর বয়সে! অভিজ্ঞতা? শুধুই কম্পিউটারের পর্দার সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিফা ম্যানেজার গেমে দল পরিচালনা করা। নিন্দুকেরা হয়তো বলতে পারেন, ক্লাবটি সেসময় চরম আর্থিক দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, অনেক তারকা খেলোয়াড় চলে গিয়েছিল, তাই এমন একজন ‘শিক্ষানবিশ’কে দলের ম্যানেজার করে আনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে হুসাইনজাদের পক্ষেও যুক্তি দেখানো যায়, ২০১৪ পর্যন্ত বেশ নির্বিঘ্নেই তো দায়িত্ব পালন করে গিয়েছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী এই কোচ। যেখানে কিনা সাবেক আর্সেনাল কিংবদন্তি টনি অ্যাডামসও আজারবাইজানেরই আরেক ক্লাব গাবালাতে টিকতে পেরেছিলেন মাত্র ছয় মাস। সব সময় আনুষ্ঠানিক শিক্ষাই লাগবে কে বলেছে?
তো, আর কি লাগে! কম্পিউটারের সামনে গেমপ্যাড-কি বোর্ড নিয়ে বসে পড়ুন। কে জানে, আপনিও হয়তো হয়ে যেতে পারেন ভবিষ্যতের আরিগো সাচ্চি, হোসে মরিনহো! ক্যারিয়ার হিসেবে একেবারে কিন্তু মন্দ হয় না। তথ্যসূত্র: গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: