9a6d3cdbb96a41cc5cbc574a8ac3d4d7-2

টাঙ্গাইল শাড়ির ‘রাজধানী’ পাথরাইল এখন মহাব্যস্ত

বিডিকষ্ট ডেস্ক

রাজশাহী নিউমার্কেটে শাড়ির দোকান নাজমুল হকের। গত রোববার তিনি টাঙ্গাইলের পাথরাইলে এসেছিলেন শাড়ি কিনতে। তাড়াহুড়া করে তাঁতিবাড়ি ঘুরে ঘুরে শাড়ি কিনছিলেন। বললেন, ঈদের বাজারে এবার টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির খুব চাহিদা। রোজার শুরুতে যে শাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন, তার প্রায় সবই শেষ। ফলে আবার এসেছেন। বিকেলেই ফিরে যাবেন।

ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই পাথরাইল। টাঙ্গাইল শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দক্ষিণে দেলদুয়ার উপজেলায় পাথরাইলের অবস্থান। এখানে ঘরে ঘরে তৈরি হয় তাঁতের শাড়ি। সারা বছরই এখানে শাড়ির বাজার জমজমাট থাকে। আর রমজান মাস এলে তা আরও সরগরম হয়ে ওঠে। ঈদ যত এগিয়ে আসে, পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি খুচরা ক্রেতাদের আনাগোনা ততই বাড়ে।

পাথরাইল এবং এর আশপাশের প্রায় ৫০০ পরিবার তাঁতের সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি বাড়ির লোকজন ঈদ সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের বাজারের চাহিদা মেটাতে এখন মহাব্যস্ত। ঘরে ঘরে শাড়ি তৈরি হচ্ছে এবং তা পাঠানো হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
পাথরাইলের শাড়ি ব্যবসায়ী সুবীর বসাক বলেন, রোজার মাস তিনেক আগে থেকেই শুরু হয় ঈদবাজারের প্রস্তুতি। নতুন নতুন নকশা তৈরি করে শাড়ি বুনন শুরু হয়। শাড়ি কিনতে রোজা শুরুর ১০/১৫ দিন আগে থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীদের আসা শুরু হয়েছে। চলে ঈদের কয়েক দিন আগ পর্যন্ত। আর খুচরা ক্রেতাদের আসা শুরু হয় ১৫ রোজার পর থেকে। পাথরাইলে শাড়ির পাশাপাশি থ্রি-পিস আর পাঞ্জাবিও তৈরি হয়।

গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, পাথরাইল প্রতিটি তাঁতিবাড়িতেই ক্রেতার সমাগম। কেউ পাইকারি ব্যবসায়ী; অন্যরা এসেছেন পরিবারের জন্য শাড়ি কিনতে। চট্টগ্রামের টেরিবাজারের মাসুম ক্লথ স্টোরের মালিক মোবারক মিয়া বলেন, রোজার শুরুতে এসে যে চালান নিয়ে গিয়েছিলেন, তা আগেই শেষ হয়ে গেছে। মাঝে ফোনে চাহিদা জানিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে শাড়ি নিয়েছেন। কিন্তু এবার টাঙ্গাইল শাড়ির চাহিদা বেশি। তাই নতুন ধরনের শাড়ি নিতে নিজেই চলে এসেছেন।

ঢাকা থেকে আসা খুচরা ক্রেতা শামিম শামস বলেন, এখানে ঘুরে ঘুরে উন্নত মানের ও পছন্দের শাড়িটি বেছে নেওয়া যায়। ঢাকার বিপণিবিতানগুলোতে এভাবে দেখার সুযোগ হয় না। তা ছাড়া ঢাকার তুলনায় এখানে দাম অনেক কম। স্থানীয় বেশ কয়েকজন তাঁতির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের কারও এখন দম ফেলার সময় নেই। একদিকে শাড়ি তৈরি অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে প্রচুর ক্রেতা সামলাতে হচ্ছে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা ফোনে চাহিদা জানাচ্ছেন। সে অনুযায়ী কুরিয়ার সার্ভিসে শাড়ি পাঠানো হচ্ছে।

তবে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে পাইকারি ক্রেতার চাপ কমে যাবে। তবে বেড়ে যাবে খুচরা ক্রেতাদের আনাগোনা, তা চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। পাথরাইলের প্রবীণ শাড়ি ব্যবসায়ী রঘুনাথ বসাক বলেন, গত দু-তিন বছরের তুলনায় এবার ঈদে তাঁতের শাড়ির বাজার বেশ ভালো। চার-পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে সিল্ক শাড়িগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সুতি শাড়িও বিক্রি হচ্ছে প্রচুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: