139791_154

বঙ্গবাহাদুরকে হারিয়ে কাঁদছে সরিষাবাড়ির মানুষ

বিডিকষ্ট ডেস্ক

দীর্ঘ ১৯ দিন ধরে সে ছিল শিরোনাম। তাকে দেখতে পুরো অঞ্চল ভেঙে পড়েছিল। প্রথমে তাকে ডাকা হচ্ছিল ‘মামা’ বলে। পরে নাম দেয়া হয় ‘বঙ্গবাহাদুর’। অতিথিকে ভালোভাবেই নিয়েছিল এলাকাবাসী। আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেছিল। মনে হচ্ছিল, সরিষাবাড়িতেই তার বুনো জীবনের অবসান হবে। সবাই যখন তাকে আপন করে নিয়েছিল, তখনই তার বিদায় ডাক এসে গেল। মঙ্গলবার সাড়ে ৬টায় ইতি টানল সে।

বঙ্গ বাহাদুর আর নেই- এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কাদা-পানিকে উপেক্ষা করে লাখো মানুষের ঢল নামে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামের নির্জন বিলের মধ্যে, শুধুই বঙ্গ বাহাদুরকে এক নজর দেখার জন্য। এ সময় একেকজন একেক ধরনের মন্তব্য আর আফসোস করতে থাকে। সোনাকান্দার থেকে দেখতে আসা সোফিয়া বেগম জানান, হাতি (বঙ্গবাহাদুর তো আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি। কেন তাকে ওই ব্যাটারা এ ভাবে গুলি করে মারল? একই গ্রামের আছিয়া বেগম জানান, বন্যার পানিতে ভেসে ভেসে যে খানেই বঙ্গ বাহাদুর গেছে সে খানেই হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। আমরাও দেখতে গিয়েছি। বঙ্গ বাহাদুর তো আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি।

145468_314

শিমুয়ার গৃহিনী আফসোস করে বলেন, বন্যার সময় বঙ্গ বাহাদুর আমার ছোট বাড়িতে উঠার চেষ্টা করে ছিল। আমি বঙ্গবাহাদুরকে দুই হাত জোড় করে বলেছিলাম, মামা তুমি আমার বাড়িতে উঠলে আমার বাড়িটি ভেঙে যাবে। সাথে সাথে বঙ্গ বাহাদুর তার গতিপথ পরিবর্তন করে নদীর পানিতে চলে যায়। এমনি শত শত প্রমাণ আছে যে বঙ্গ বাহাদুর দীর্ঘদিন সরিষাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ফিরে শুধুই মানুষদের বিনোদন দিয়েছে। যেন বঙ্গ বাহাদুর এ এলাকার মানুষের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল।
দেখতে আসা জনতা আফসোস আর ক্ষোভে বিক্ষোভ করেছে উদ্ধারকারী দল বন বিভাগের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। জনতার দাবি, বঙ্গবাহাদুরকে ভুল চিকিৎসা আর নিয়মিত খাবার না দিয়ে তাকে মেরে ফেলেছে।

ভারতের আসাম প্রদেশের কাজলার পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা বন্য হাতিটি গত ২৮ জুন প্রথমে বাংলাদেশের কুড়িগ্রম জেলায় প্রবেশ করে। পরে জামালপুরের দেয়ানগঞ্জ উপজেলার যমুনা নদীর দ্বীপচর ডাকাতিয়ায় এক ছন ক্ষেতে ২ দিন অবস্থানের পর আবারো পানিতে ভাসতে ভাসতে মাদারগঞ্জ উপজেলার নব্বইয়ের চরে একদিন অবস্থান নেয়। হাতিটি পানিতে ভাসতে ভাসতে বগুড়ার ধনুট সারিয়াকান্দি হয়ে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় ছেন্নার চরে প্রায় সপ্তাহ খানেক অবস্থান নেয়। এর পর যমুনার প্রবল স্রোতে পানিতে ভেসে হাতিটি ২৭ জুলাই সরিষাবাড়ী উপজেলায় প্রবেশ করে। দীর্ঘ ৫০ দিন পর অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরিষাবাড়ীর জনতাকে কাঁদিয়ে মঙ্গলবার সকালে সরিষাবাড়ীর কয়ড়া নামক গ্রামের এক নির্জন বিলের মাঝে মারা যায়।

145421_118

 

বঙ্গ বাহাদুরকে আয়ত্ত্ আনার জন্য উদ্ধারকারী টিম গত ১১ আগষ্ট প্রথম টাংকুলাইজার গান মেশিন দিয়ে ভেকসিন পুষ করে হাতিটিকে অজ্ঞান করে শিকল পড়ানো হয়। দ্বিতীয় দফায় ১৪ আগষ্ট আবারো ৪টি টাংকুলাইজার গান দিয়ে ক্যাটাভিন/ঝাইলাভিন ভেকসিন দিয়ে অচেতন করার এক ঘন্টা পর বঙ্গবাহাদুর দুর্বল হয়ে কাদা পানিতে লুটিয়ে পড়ে। এর পর ১৫ আগস্ট দিনভর ওই কাদা পানিতে প্রখর রোদের ভিতর বঙ্গবাহাদুরকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে বঙ্গবাহাদুর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
বঙ্গ বাহাদুরকে নিয়ে সকাল থেকেই সরিষাবাড়ীর সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে । দীর্ঘদিন বিচরনের পর বঙ্গবাহাদুরের মৃত্যুতে এলাকার আহাজারি আর আলোচনায় একমাত্র বিষয় বঙ্গবাহাদুর।

Please Visit: http://www.bdcost.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: