148043_15

তিলাওয়াতে কুরআনের ঐতিহ্য

বিডিকষ্ট্  ডেস্ক

কুরআন তিলাওয়াতের মতো এমন সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতটি এক সময় মুসলিম সমাজের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে জারি ছিল। ফজরের নামাজ আদায় করেই মুরব্বিরা কুরআন তিলাওয়াতে মশগুল হয়ে যেতেন। আর কোমলমতি শিশু-কিশোরেরা দল বেঁধে কুরআন বুকে ছুটে যেত মসজিদ-মক্তব পানে। সন্ধ্যা বেলায়ও ঘরে-বাড়িতে মুরব্বিরা সম্ভব হলে কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং ছেলেমেয়েদের নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াতে বসিয়ে দিতেন। ফলে প্রায় প্রতিটি ঘর থেকে সকাল-সাজে কুরআন তিলাওয়াতের সুমধুর আওয়াজ ধ্বনিত হতো। এলাকার অনেক নেককার শিক্ষিতা মহিলারা নিজেদের ঘরে পাড়া-পড়শির আগ্রহী ছেলেমেয়েদের কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দিতেন। মক্তবে বা বাড়িতে কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কচিকাঁচা ছেলে মেয়েদের নামাজ, তায়াম্মুম, ওজু ও গোসলের নিয়মসহ জীবন ঘনিষ্ঠ দোয়া ও জরুরি মাসায়েলের তালিম দিতেন। সেই সাথে মা-বাবার হক, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, ছোটদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শনসহ জরুরি আদব-সভ্যতার তালিমও চলত মক্তবে। আমি নিজেও বাল্যকালে মক্তবে পড়েছি এবং আমার সর্বকনিষ্ঠ খালা যিনি নিজ বাড়ির আমগাছ তলায় প্রত্যহ বাদ ফজর অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কুরআনের তালিম দিতেন তার কাছেও পড়েছি।

Preaching-Authentic-Islam-i-20160822110719

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষাদান এবং ঘরে ঘরে তিলাওয়াতে কুরআনের যে ঐতিহ্য আবহমানকাল থেকে জারী ছিল সেই ঐতিহ্য এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। সকাল-সন্ধ্যায় পাড়া-মহল্লার ঘর-বাড়ি থেকে কুরআন তিলাওয়াতের সেই সুমধুর আওয়াজ এখন আর তেমন ভেসে আসে না। ভেসে আসে বিভিন্ন গান-বাজনার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি। কোমলমতি শিশু-কিশোরদের ভোর-বিহানে কুরআন বুকে মক্তবপানে ছুটে চলার সেই সুন্দরতম পবিত্র দৃশ্য এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। ভোরেই তাদের নিয়ে মা-বাবারা শুধু ছুটে যান বিভিন্ন আধুনিক শিক্ষালয়ে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কোমল কণ্ঠে সম্মিলিতভাবে কুরআন তিলাওয়াত ও কালেমাসহ প্রয়োজনীয় দোয়া পাঠের সেই আওয়াজ এখন আর তেমন শোনা যায় না। তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় তথাকথিত আধুনিকতা ও অপসংস্কৃতির আগ্রাসনে কচি বয়সেই ছেলেময়েরা বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি, নৈতিকতা বিবর্জিত নাচ-গান শিখছে। শিখছে নানা ধরনের কৌতুক। এভাবে নব প্রজন্ম নিমজ্জিত হচ্ছে অনৈতিকতার অতল গহ্বরে। ক্রমেই কুরআনের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে চলেছে সমাজ।

2016_06_13_14_40_24_6v5jep4prXeqUsu7ttmeb1a0rBDGNL_original-800x450
এমন ক্রান্তিকালেও আমরা আশাবাদী হই হেফজখানা ও চালু থাকা মক্তবগুলোর (যদিও আগের মত প্রাণবন্ত নয় বা শিক্ষার্থী সংখ্যা অপ্রতুল) দিকে তাকিয়ে। বিশেষত হেফজখানাগুলো অবিরত পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত চলছে। যেখান থেকে প্রতি বছর অসংখ্য হাফেজে কুরআন তৈরি হয়ে কুরআনের খেদমতে নিবেদিত হচ্ছেন। হাফেজদের অবদানে বিশেষ করে কুরআন নাজিলের মাস রামাজানুল মোবারকে আমরা তারাবিহর নামাজে পুরো কুরআন মজিদ শোনার অবারিত সুযোগ লাভ করে থাকি। তাদের সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াতের সুমধুর আওয়াজে রামাজান মাসে মসজিদগুলো অধিকতর প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। মুমিন অন্তরে সৃষ্টি হয় তাকওয়ার আবহ। শাণিত হয় ঈমানি স্পৃহা। যেমনটি বলেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা, ‘মুমিনতো তারাই যাদের হৃদয় কম্পিত হয় যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয় এবং যখন তার আয়াত তাদের কাছে তিলাওয়াত করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের প্রতিপালকের ওপরই নির্ভর করে।’ (সূরা আনফাল : ০২)।

মক্কা3
আসুন! আমরা কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শিখি, কুরআনের শিক্ষা আহরণে মনোনিবেশ করি, কুরআনের হাফেজ, আলেম ও কারিদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। কুরআনের শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একনিষ্ঠ সহযোগী হই। সর্বোপরি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সমাজ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করি।
লেখক : নিবন্ধকার

Please visit our site and compare price before you buy: Bdcost

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: