144617_140

নগরে সবুজ সাম্রাজ্য

BDcost Desk : 

গত ৩১ জুলাই ২০১৬ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে জাতীয় বৃক্ষমেলার। ঢাকার শেরেবাংলা নগর বাণিজ্যমেলার মাঠে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রতি বর্ষাকালেই সাধারণত বৃক্ষমেলার আয়োজন হয়। বর্ষাকাল বৃক্ষরোপণ, বীজতলা তৈরি, চারা উৎপাদনের মওসুম। তাই এ সময়টিকেই মেলার আয়োজনের মাধ্যমে জনগণকে বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহী করার চেষ্টা করার জন্য বেছে নেয়া হয়। প্রতি বছর কমছে আমাদের সামষ্টিক বনাঞ্চল। সেই সাথে কমছে নগরের সবুজায়ন। ইট-পাথরের ঢাকায় তাই বৃক্ষমেলা যেন হাঁপিয়ে ওঠা জনমানুষের প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ।

441fc4d2fbbd8dfff4683d17ec0d0da5

দেখে অন্তত তা-ই মনে হলো। তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই এ মেলা যেন স্বমহিমায় বিরাজমান। নেই কোনো হট্টোগোল। কোনো বিশৃঙ্খলা। কেমন শান্ত, চুপচাপ পরিবেশ-প্রকৃতি। অথচ ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই আছেন। বেচাবিক্রিও হচ্ছে। মনজুড়ানো পরিবেশ। কে বলবে জানুয়ারিতে একই জায়গার অবস্থা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত! ঝিরিঝিরি দখিনা বাতাসে গাছের পাতাগুলো কাঁপছে। উদ্বেলিত করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়। প্রতিনিয়ত জ্যাম আর ঘিঞ্জি চার দেয়ালে আটকে থাকা চোখগুলোর যেন দেখেও সুখ!
ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক স্টল স্থান পেয়েছে মেলায়। ঢাকা, ঢাকার আশপাশ ছাড়াও দেশের নানান প্রান্ত থেকে নার্সারি প্রতিষ্ঠান এসেছে মেলায় অংশ নিতে। প্রত্যেকেই গতানুগতিক সাধারণ গাছগাছড়ার বাইরে নিজস্ব কিছু বিশেষ আইটেম এনেছেন। সাধারণ নার্সারির পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ প্রতিষ্ঠান, বীজ, কীটনাশক ও সারের স্টল, পরিবেশ রক্ষা বিষয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান, বৃক্ষ পরিচর্যার যন্ত্রপাতি উপকরণ বিপণন প্রতিষ্ঠানসহ নানান ধরনের স্টল রয়েছে মেলায়। রয়েছে বৃক্ষ পরিচর্যা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান সম্পর্কিত আরো বিস্তারিত জ্ঞানসমৃদ্ধ নানান পুস্তিকাও। ফলে বৃক্ষপ্রেমিকেরা এক ময়দানেই সব চাহিদা মেটাতে পারছেন।

144582_193
মেলায় প্রতিবারের মতোই জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ও বলধা গার্ডেনের স্টল নজর কেড়েছে মেলায় আসা ছোট-বড় সবার। বিশেষ করে শাপলা ও আমাজন লিলির বামুন পুকুরের তো জুড়ি নেই। এ ছাড়া অনেক দুর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ শ্রেণীর দেখাও মিলেছে। এরপরই ভিড় দেখা গেল অর্কিড ও ডেকোরেশন প্লান্ট, ইনডোর প্লান্টের স্টলগুলোতে। প্লান্টগুলোর সাথেই স্টাইলিশ টব থাকলেও মেলায় টবের স্টলও রয়েছে। কেউ কেউ আলাদা আলাদা চারা কিনে এখান থেকে পছন্দ করে টব কিনে নিচ্ছেন। সাথে মাটির অন্যান্য তৈজসপত্র, পটারি, মটকা, শিকা ঘণ্টিও আছে। আছে বাঁশ-বেতের ডেকোরেশন পিস।

citytrees2
মেলায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডেকোরেশন প্লান্ট যেমন- বিভিন্ন জাতের পাতা বাহার, অর্কিড, অ্যারেকেসি গোত্রীয় শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ ও ফুলের গাছের। এরপরই ফলের গাছের। তবে আগের চেয়ে ঔষধি ও বনজ গাছের বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। অনেকে সবজির বীজ ও চারাও কিনে নেন বাড়ির ছাদে লাগানোর জন্য। তাতে একটু হলেও শহুরে পরিবেশেই গ্রামের টাটকা তরকারির স্বাদ নিতে পারা যায়।
মেলার কল্যাণে দেশীয় অনেক ফলই শহুরে জীবনে জায়গা করে নিতে পারছে। নগরে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম জানতে পারছে বাংলার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের সমৃদ্ধি। কত শত চেনা-অচেনা নাম না জানা গাছের সমাহার। এ যেন সত্যিই সবুজের সাম্রাজ্য। বাবা-মায়ের সাথে ঘুরতে আসা শিশুদের তাই প্রশ্নের শেষ নেই। এটা কী গাছ ওটা কী ফুলÑ এমন হাজারো প্রশ্ন। উত্তর দিতে বাবা-মায়ের নিতে হচ্ছে দোকানির সাহায্য। মজার ব্যাপার হচ্ছে, অনেক দোকানিও সঠিকভাবে জানেন না সব গাছের নাম। কেউ বা নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে ঠিক করে নিচ্ছেন নাম। আবার কেউ এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে অবস্থা দেখে উপলব্ধি করা গেল আমাদের প্রকৃতির সমৃদ্ধ উপকরণ। সত্যি, এত হাজারো গাছের নাম জানা দুষ্করই বটে!
তবে অনেকে আক্ষেপও করলেন মেলা নিয়ে। অন্যান্য মেলা নিয়ে ব্যাপক হইচই হলেও বৃক্ষমেলা যেন অনেকটাই অনাদর-অবহেলায় পড়ে আছে। নেই কোনো আপডেট, কোনো লাইভ টেলিকাস্টের প্রতিযোগিতা। ঢাকার বাসিন্দাদের অনেকেও জানেনই না মেলা হচ্ছে। স্টলমালিকেরা জানালেন অনেকেরই মেলায় আসার খরচ পর্যন্ত ওঠে না। তাই পুরনো অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন আর আসে না। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের নার্সারিগুলো। তবে বেশ প্রতিষ্ঠানও আছে। ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠানও আছে- যারা লাভ-ক্ষতির হিসাব না করে প্রতিবারই পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির দায়িত্ববোধ থেকে মেলায় অংশ নিয়ে থাকে।

image_1756_220152-660x330
এত কিছুর পরও মেলা চলছে। মেলা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত। মেলায় কোনো প্রবেশ ফি নেই। তাই যখন তখন ঘুরে আসতে পারেন সবুজের সাম্রাজ্য। যত খুশি ততবার। প্রকৃতিপ্রেমিকদের তো অন্তত একটিবার পা বাড়াতেই হবে এই ভরা বর্ষায়। কখনো পরিষ্কার নীল আকাশের ঝকঝকে রোদে, কখনো কালচে মেঘের আবছায়ায় গাছগাছালির মাঝে দাঁড়িয়ে নিজেকে অন্য এক জগতে আবিষ্কার করতেই হবে। বুনো গন্ধের শ্বাসমাখা মায়ায় জড়িয়ে কে ভাবতে পারবে- এ আমাদের চিরচেনা যান্ত্রিক ঢাকা। কালো ধোঁয়া আর ডিজেলের উৎকট গন্ধময় ঢাকা।

কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মুহূর্তেই সর্বনিন্ম বাজার মূল্য যাচাই করতে ক্লিক করুনঃ  BDcost

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: