untitled-4-copy_256-1

সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যে প্রকৃতি, শরৎ আলোর কমল বনে

BDcost Desk : 

সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যে প্রকৃতি রূপলাবণ্যে শরৎরানীর রূপ বর্ণনায় শ্যামল ছায়া বাংলাদেশের মাঠ-ঘাট, নদী-নালা ও বিলের পারে বালুচরে পানির কলকলানিতে নীল আকাশে রুপালি তারায় ভরে উঠেছে কাশবন। মেঘ মুছে যাওয়া বর্ষণ শেষের আকাশে হাজার হাজার তারা ঝিকমিক করে জ্বলছে। রোদে ঝলমল করছে চার দিক। ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে নীল আকাশ, স্বচ্ছ সাদা মেঘ। অন্ধকার মেঘবৃষ্টির কোথাও চিহ্ন পর্যন্ত নেই। জলবৃষ্টির পৃথিবী ছেড়ে নীল দিগন্তের দিকে ছুটছে সুরমা মেইল। এখন প্রকৃতির হাওয়া বইছে শরৎকাল। শিশুশিক্ষার বইতে ঋতু পরিচয়ে লেখা আছে ভাদ্র-আশ্বিন দুই মাস শরৎকাল। যদিও ভাদ্র মাসের অনেকটাই কোনো কোনো বছর প্রায় পুরোটাই বর্ষাকালের মধ্যে পড়ে, এমনকি আশ্বিন মাসেও বর্ষা থেকে যায়। কবিও লিখেছেন মেঘে ঢাকা দারুণ দুর্দিনের আকুল আশ্বিনের কথা।

rail-and-kash
শরৎ কথাটির সরাসরি কোনো প্রতিশব্দ নেই, ইংরেজিতে হলো হেমন্ত ঋতু। বিলেতি অভিধানের ভাষায় গ্রীষ্ম ও শীতের মধ্যবর্তী সময়। কিন্তু গ্রীষ্ম ও শীতের মধ্যে আমাদের রয়েছে দীর্ঘ বর্ষাকাল। তবে ইংরেজিতে অনুবাদ করার সময় অনেকেই শরৎকাল বুঝাতে হেমন্ত কথাটি ব্যবহার করেন। শরতের অন্যতম আকর্ষণ আকাশে সাদা মেঘের বালুচরে ফুটে থাকা কাশফুল। শরৎকালের অন্য অনুষঙ্গ, কাগজে ছবি নীল আকাশের সাদা মেঘের নিচে হাওয়ায় আন্দোলিত ক্ষুদ্র কাশগুচ্ছ বাংলাদেশের এখন সর্বত্র দেখা যায়। এখন সে সমাগত শরৎকাল ওই যে শোনো শোনো জঙ্গলে জঙ্গলে, বাগানে বাগানে, পাতায় ঝোপের আড়ালে আড়ালে ঘুম ভেঙে ডেকে উঠেছে কাকপাখি, ব্যাঙ, ঝিঁঝিঁ নানা ধরনের পোকামাকড়, শুনতে পাওয়া যায় কত পাখির ডাক। পাখিরা আনন্দে নেচে ওঠে এই শরৎ ঋতুতে। এ যেন আনন্দে বেজে ওঠার ঋতু। এ যেন মহানন্দে গান গেয়ে হৃদয়ের গভীর অভিব্যক্তি উজাড় করে দেয়ার ঋতু। এ শরৎ ঋতু সবচেয়ে দামি আর চোখ জুড়ানো কুচি নক্ষত্র অলঙ্কার মুক্তোর নাকছবি।

sorot
এখন বর্ষার শেষ দৃশ্য আসে আসে, দিনের বেলায় কখনো রোদ্দুর। ‘আমার রাত পোহালো শারদ প্রাতে’ গানের আশ্চর্য এই কলিটি সেই অনিন্দ্য স্বর্গকণ্ঠ কৃনন্দ-লাল সায়গলে। আর এই স্বর্গ ছেঁড়া গানটি লিখেছেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শরৎকাল নিয়ে তার আশ্চর্য মায়াজালের অন্তরালে যেন উঁকি দেয় আমাদের ক্ষয়িভূত বা ভস্মীভূত পৃথিবী, এক ভূস্বর্গ আমাদের শরৎ ঋতু যেন চিত্রপিত বাংলা, নয়নালোভন হৃদয় হরণ।

kash
লাল গোলাপি আলপাকা রোদ্দুর ফুটেছে। দিগন্ত থেকে রোদ্দুরের স্বপ্নফুল সোনা ফুল ছড়িয়ে পড়েছে। আকাশে-বাতাসে, মাঠে-প্রান্তরে, গাছের মাথায় মাথায় সবুজ ঘাসের গালচেয় চাঁদের সামিয়ানায়। আহা কি ঢলো ঢলো, আলতো আলতো, থোকা থোকা, ফাঁপা ফাঁপা, মেখে নিই, চোখের মুখে গায়ে গলায় মেখে নিই ও পৃথিবী তুমি কি মোহিনী জাদু জানো, সেই যে স্বর্গের কবি পদ্য লিখেছিল তার কাঁচা সবুজ যুব বয়সে ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে।’ সত্যিই হে প্রভু, কে মরতে চায় এই মর্ত ভূস্বর্গ ফেলে, যে প্রাণ কানায় কানায় ভরে ছিল। প্রতিমুহূর্তে কানায় কানায় ভরে তুলছে, এর আর তুলনা নেই, বিনিময় নেই। বেঁচে আছি, হাওয়া লাগছে রোমকূপে তৃষ্ণায় ছুঁয়ে যাচ্ছে বিন্দু বিন্দু ভালো লাগা। এর সাথে ভেসে আসছে নাম না জানা পাখির কলকাকলী। গৌরি রোদ্দুর মেঘলা হলো। ভাদ্র পড়েছে। সবে চিনি ছাড়া তিতচায়ে চুমুক দিয়েছে। মায়ের কাছে গিয়ে বসি। ভাই চলে গেল অফিসে। বাসে যাবে। কারখানায় ভেঁপু বাজবে। আরিফ তিড়িং করে লাফিয়ে ছুটে গেল ওর ছোটবেলায়। কচি কণ্ঠে বলল, ওমা আমার ব্যাকরণ খাতাটা গেল কোথায়? ঝি-বউয়ের বাসন মাজার শব্দ পাচ্ছি। আবার রোদ্দুরের অন্ধকার মুখ লালচে হয়ে যাচ্ছে। ভ্যানগাড়ির হর্ন বাজছে। মা বলল, এই সেই সময় সকালের রোদ্দুরের এক রূপ, ভোরে এক রূপ। বিকেলে এক বরণ, আবার সন্ধ্যায় লাগে আরেক।

kash_flower1
পৃথিবী বদলে যাচ্ছে, সাজ বদলাচ্ছে। এই আশ্চর্য শরৎ ঋতু। বিকেলে নীল আকাশ তার সমস্ত অঙ্গজুড়ে সাদা মেঘ। আমাদের ঋতুচক্রে শরতের মতো নির্মল কোমল প্রশান্ত স্বভাবের আর কেউ নেই। তার রঙ, রূপ এমন প্রকট নয় যে, সহজেই চোখে পড়ে। বরং চোখে দেখার যতটা তার চেয়ে বেশি বেশি ধরা পড়ে তার স্বরূপ হৃদয়ানুভবে। এই যাচ্ছে একেকটি দিন, কতই না বৈচিত্র্যময় তার সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা। শিশিরসিক্ত শরৎ প্রভাতের সাথে কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া যায় না রোদে ঝলসানো মধ্যাহ্নের। আবার চিকন হয়ে আসা বিকেলের রোদ মাখা নিস্তরঙ্গ প্রকৃতির মৌনরূপ যখন মৃদ কুয়াশার আবরণে আত্মসমর্থন করে দিনান্তের ঘোষণা দেয়, তার ছবিও সম্পূর্ণ আলাদা। তবে কবি হৃদয়ে সব কিছু ছাপিয়ে শারদীয় প্রভাতের কোমল মোহময় রূপটিই উদ্ভাসিত হয়েছে প্রধানত। তাই ‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি, তাই শরৎ আলোর কমল বনে’ এমন বহু পঙ্ক্তিরই দেখা মেলে শারদীয় প্রভাতের স্তববন্দনায়।

zecchjk
শরতের এত রূপ, এত ঐশ্বর্য, এত মোহ, এত ঋতুবৈচিত্র্য, এত রঙধনুর রঙ, এত নীল আকাশের নীল, এত ছায়াপথের আলোছায়া, এত সূর্যাস্তের রক্তরাগ, এত ভোরের শিশির, এত কাশফুলের হেলাদোলা আর এই বাংলা ছাড়া কোথায় পাবো। চোখ জুড়িয়ে যায়, মন জুড়িয়ে যায়, জীবন জুড়িয়ে যায়, সব পেয়েছি আমার এই দেশের সোনার বাংলায়।

কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মুহূর্তেই সর্বনিন্ম বাজার মূল্য যাচাই করতে ক্লিক করুনঃ BDcost

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: