913

বৃদ্ধরা দিন দিন একা হয়ে যাচ্ছে, কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে জীবন, ভালো থাকুক প্রবীণেরা

BDcost Desk : 

বৃদ্ধ আশ্রমের ধারণাটা আমাদের দেশে বেশি দিনের নয়। তার পরও অনেক প্রবীণকেই আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে বৃদ্ধ আশ্রমে। এর পক্ষে অনেকে যুক্তিও দেখান। নিজেদের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে যে সন্তানদের মানুষ করেছে। বৃদ্ধ বয়সে যদি তারা সহায় না হতে পারে তবে এর চেয়ে দুঃখজনক কিছু হতে পারে না

আমাদের সমাজে বয়স্করা যেন দিন দিন একা হয়ে যাচ্ছেন। বৃদ্ধ বয়সে সংসার ও কর্মজীবন থেকে অবসর নেয়া মানুষগুলো যখন সময় কাটানোর জন্য যখন পরিবারের অন্যদের সঙ্গ খোজেন, পরিবারে নিজের মত দিয়ে সন্তানদের সহযোগিতা করতে চান। নিজেদের অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথে শেয়ার করতে চান তখন আমরা তাদেরকে ঠেলে দিতে চাই এক কোনে। মনে করি পরিবারে তাদের অংশগ্রহনের কোন প্রয়োজন নেই। এগুলো পশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব। এ সংস্কৃতি আমাদের এতটাই গ্রাস করেছে যে আমরা হারিয়ে ফেলেছি আমাদের মূল্যবোধ। সামাজিক শিষ্টাচার। যা প্রাচীনকাল থেকে আমাদের মাঝে আছে। আমারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি নিজেদের নিয়ে। ফলে প্রচীণ ব্যক্তিরা যে সামাজিক পরিবেশ ও মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এসেছেন তাদের জন্য বদলে যাওয়া এ সামাজিক অবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%ae%e0%a6%be1

মানুষের জীবনে বয়সের একেকটি স্তরে ভিন্ন ভিন্ন স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে। যে স্বপ্ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার আশা জাগায় একটি সুন্দর জীবনের। আর বার্ধক্য হচ্ছে মানুষের জীবনের শেষ স্তর। শেষ বয়সে এসে একজন মানুষ প্রত্যাশা করেন স্ত্রী, ছেলেমেয়ে আর আদরের নাতি-নাতনীদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে আনন্দময় জীবন যাপন করবেন; কিন্তু এ জাগয়াটিতে পারিবারিক স্বার্থ আর দ্বন্দ্বের কারণে বর্তমানে প্রবীণ মানুষেরা এক রকম কষ্টের জীবন যাপন করছেন। কেউ কেউ পরিবার থেকে ছিটকে আশ্রয় নিচ্ছেন কোনো প্রবীণ নিবাসে অথবা অচেনা-অজানা কোনো নির্জন স্থানে। তার পরও এসব নিঃস্বার্থ মানুষেরা কখনো পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি কামনা করেন না।

সমাজ সভ্যতার অগ্রগতির এই যুগে পৃথিবীর বাহ্যিক চাকচিক্য যত বাড়ছে, অন্তরালের মানুষের রক্তের সম্পর্কের সুতো যেন ততই আলগা হয়ে যাচ্ছে। জীবনের প্রথম পদপে থেকে শুরু করে বড় বড় যেসব ভূমিকা পালন করে থাকেন, তারাই হয়ে যান প্রবীণ। যেখানে শিতি সভ্য সমাজের বড়াই করি, আর এই সমাজের প্রবীণদের অবস্থান একাকিত্ব ও অন্ধকারের। আজ প্রবীণদের এই দুরবস্থার জন্য যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার গঠনকেই দুষছেন অনেকে। আবার অনেকের মতে, ভারতীয় হিন্দি বাংলা সিরিয়াল দেখে আগ্রাসী মনোভাবাপন্ন হয়ে ওঠার কারণে এক সময়ের পরিবারের প্রধান ব্যক্তিটিই হয়ে যাচ্ছেন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য।

20160724_131417

দোহার উপজেলার নূপুর গ্রামের রেনু বেগমের বয়স প্রায় সত্তর বছর। শেষ জীবনে এসে ছেলেসন্তান থেকে বিছিন্ন হয়ে জীবন যাপন করছেন। তিনি জানান, ছেলেরা বিয়ে করার পর যার যার মতো সংসার শুরু করে। মায়ের খোঁজখবর নেয়ার প্রয়োজন মনে না করায় আশ্রয় হয়েছে ভাড়াবাড়িতে। মানুষের কাছে চেয়েচিন্তে কোনো রকম দিন পার করছেন রেনু বেগম। তিনি আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, এক সময় স্বপ্ন দেখতাম ছেলে, ছেলের বউ আর নাতি-নাতনীদের নিয়ে সুখের দিন কাটাব; কিন্তু সে স্বপ্ন কুঁড়িতেই শেষ হয়ে গেছে। যে ক’দিন বেঁচে থাকব, পরিবার থেকে বিছিন্ন হওয়ার কষ্টকে বুকে লালন করে থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমার মতো কোনো বাবা-মা যেন সন্তানসন্ততি থেকে পৃথক না হয় এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের আবদুল আজিজের প্রায় একই পরিণতি। নদীভাঙনের পর থেকে তার ছেলেরা পৃথক হয়ে গেছে। বিয়ে করে ছেলেরা আলাদা সংসার করায় শেষ বয়সে এক কঠিন পরীার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। জীবনে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন ছেলেমেয়েকে মানুষ করানোর। শেষ বয়সে ছেলেরা রোজগার করে বাবা-মায়ের মৌলিক চাহিদা পূরণ করবে; কিন্তু আজ ছেলেরা খোঁজখবরও রাখে না। তাই বৃদ্ধ বয়সে নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রামে নামতে হচ্ছে তাকে। আেেপর সুরে বলেন, আমারও ইচ্ছা করে নাতি-নাতনীদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের এক জীবন কাটাব; কিন্তু তার আর ভাগ্য হলো না। তারা আমার এই সাদা চুল-দাড়ি নিয়ে খেলা করবে। নতুন নতুন গল্প শোনাবÑ এ রকমই আশা করেছিলাম; কিন্তু নিয়তি আমাকে পরিবার থেকে অনেক দূরে নিয়ে এসেছে।

3df1c5g

সবশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ প্রবীণ। অর্থাৎ দেড় কোটি মানুষ প্রবীণ। তাদের বয়স ৬০ বছর বা তার চেয়ে বেশি। প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৬৮ বছর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গুড হেলথ অ্যাডস লাস্ট টু ইয়ার্স শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবীণ জনসংখ্যার বৃদ্ধি একটি বৈশ্বিক বিষয়। তবে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোয় তা দ্রুততম সময়ে ঘটছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সময় বা সদিচ্ছার অভাবে প্রবীণ ব্যক্তিরা অনেক েেত্র একা একা থাকতে বাধ্য থাকেন। বর্তমানে আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি প্রবীণনিবাস বা বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠেছে। এসব বৃদ্ধাশ্রমে যাদের ঠাঁই হয়েছে, এদের বেশির ভাগ পরিবারের বংশমর্যাদা তুলনামূলক ভালো। তার পরও এদের কেন বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হলো; এ প্রশ্ন অনেকের? বৃদ্ধ বাবা-মাকে অনেক সন্তান পরিবারের বোঝা মনে করেন। কখনো কখনো দেখা যায় সন্তান তার নিজের পরিবারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে; তাই বাবা-মাকে মনে করছে বোঝা। নিজে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একটু ভালো থাকার জন্য বাবা-মায়ের ঠাঁই করে দিয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে।

20160724_143938

আবার এমনও দেখা যায়, সন্তানের টাকা-পয়সার অভাব নেই; কিন্তু মা-বাবাকে নিজের কাছে রাখার প্রয়োজন বোধ মনে করছেন না। হয় নিজেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে, নয়তো অবহেলা-অনাদরে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে বাধ্য করছেন। তাই শেষ ঠিকানা হিসেবে বেছে নেয়া হয় এসব আশ্রমকে। আবার এর বিপরীত চিত্র রয়েছে আমাদের দেশে। বাবা-মা যত অশিতি হোক বা যত অসচেতন হোক না কেন, তাতে কোনো ভ্রƒপে নেই সন্তানদের। কারণ এ পৃথিবীতে বাবা-মায়ের সমক কেউ নেই। তাই সন্তানেরা বাবা-মাকে আগলে রাখেন পরম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা দিয়ে। তারা বৃদ্ধ বয়সে যাতে কোনো কষ্ট না পান, সেদিকে সর্বাবস্থায় সতর্ক থাকেন। আমাদের মনে রাখা উচিত, আজ যিনি সন্তান, তিনিই আগামীদিনের বাবা কিংবা মা। বৃদ্ধ বয়সে এসে মা-বাবারা যেহেতু শিশুদের মতো হয়ে যান, তাই তাদের জন্য সুন্দর জীপনযাত্রার পরিবেশ তৈরি করাই সন্তানের কর্তব্য। তাদের জন্য তৈরি করতে হবে নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী। পৃথিবীর প্রত্যেক বাবা-মা ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন । এটাই হোক জীবনের জয়গান।

কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মুহূর্তেই সর্বনিন্ম বাজার মূল্য যাচাই করতে ক্লিক করুনঃ Bdcost

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: