hajj20160829145214

পবিত্র হজ থেকে শিক্ষা: আল্লাহর মেহমান কী নিয়ে ফিরলেন

BDcost Desk:

হে আল্লাহর মেহমানরা, আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলিম মিল্লাতের পিতা হজরত ইবরাহিম আ:-এর ডাকে আল্লাহর ঘর তথা বায়তুল্লাহ, ওয়াদিল মুকাদ্দাস বা পবিত্র উপত্যকা মক্কা-মদিনায় বেশ কিছুদিন বেড়িয়ে এলেন। আল্লাহর মেহমানদারির অনেক কিছুই সেখানে উপভোগ করেছেন। দীন-দুনিয়ার কল্যাণের অনেক নমুনা দেখে এলেন। আরাফাতের ময়দানে মানবতার নবী সা: তাঁর শেষ বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমার এ কথাগুলো পরবর্তী বা পেছনে পড়ে থাকা লোকদের কাছে পৌঁছে দিও। হতে পারে তারা তোমাদের চেয়ে অধিকতর দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।’

135650_157
হে মেহমানরা, এখন বলুন, আপনি আপনার পরিবার, আপনার সমাজ, আপনার দেশ ও জাতির জন্য কী পয়গাম নিয়ে এলেন? যদি নিয়ে এসে থাকেন, তাহলে কোনো প্রকার দ্বিধা-সঙ্কোচ নয়, সকল প্রকার জড়তা ছাড়াই আপনার পরিবার, সমাজ ও জাতির সামনে দাঁড়িয়ে যান এবং হজরত ইবরাহিম আ:-এর মতো সগর্বে ঘোষণা দিন, হে আমার পরিবার, হে আমার জাতি, তোমরা আজ যা করছ আমি সব কিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে একমাত্র সেই প্রভুর দিকে ফিরে যাচ্ছি যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, যাঁর সাথে কোনো শরিক নাই, আসমান জমিনে একমাত্র তাঁর রাজত্বই চলবে। আমি আরো ঘোষণা করছি, সৃষ্টি যাঁর হুকুম চলবে তাঁর। কারণ তালবিয়ার মাধ্যমে আমি আল্লাহর কাছে সেই কথাই বলে এসেছি। আমি বলে এসেছি- ‘লা শারিকা লাকা লাব্বায়িক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়ামাতা লাকা ওয়াল মুলক।’ হে আমার জাতি, আল্লাহর মেহমানদারির সময়টাতে একবার নয় দু’বার নয়, শতবার হাজারবার এই কথা বলে এসেছি। বলে এসেছি রাজত্ব ও হুকুমাত একমাত্র তোমারই চলবে। পুরো দেড়টি মাস সেই ওয়াদাই তো করে এলাম। আর প্রকৃত সত্য তো এটাই তাঁর সৃষ্ট জমিনে অন্যের হুকুমাত তো কখনো চলতে পারে না। অর্থাৎ সৃষ্টি যাঁর, আইনও চলবে তাঁর।

49563_111
সুতরাং হে আমার জাতি, আমি নিমকহারামি করতে পারি না। যদি এমনটি করি তবে আমি একই সাথে ওয়াদাভঙ্গকারী, মিথ্যাবাদী ও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো। বায়তুল্লাহর চারদিকে আমার তাওয়াফের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল এই যে, আমার সব কিছুই তথা আমার জীবনাচরণ এই ঘরকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হবে। আজ থেকে আমার জীবনে পরিবর্তনের একটা সূচনা সৃষ্টি হবে। আমার আরো লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল, আমি দেশে গিয়ে আমার রাজনীতি, আমার সমাজনীতি ও আমার অর্থনীতি তথা আমার সমাজ ও রাষ্ট্রকে এ ঘরের দিকে ফিরিয়ে আনার আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়ে যাবো। এ জন্য যদি আমার জান আমার মাল ও আমার পরিবার হুমকির সম্মুখীন হয় তাতে কোন আপস ও পরোয়া কোনোটিই করব না। যেমনটি করেননি উহুদের ময়দানে শায়িত সাইয়েদুশ শুহাদা বীর আমির হামজাসহ ৭০ জন সাহাবি, যেমন সামান্যতম পিছপা হননি জান্নাতুল বাকিতে শায়িত লক্ষাধিক সাহাবা। যেমনটি জীবন-মরণ সঙ্কটেও সামান্যতম হতোদ্যম হননি গারে সওরে আশ্রয় নেয়া সারোয়ারে আলম ও তাঁর সাথী। মক্কার রাজা-বাদশাহ, ধনদৌলত ও সুন্দরী নারীর প্রলোভন যাঁর লোভকে উসকে দিতে পারেনি মক্কার কাফের সরদাররা। নিজ জাতির চরম বিরোধিতার মুখে মদিনায় হিজরত করে হলেও আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করে পৃথিবীবাসীর সামনে তার সুফল তিনি দেখিয়ে গেছেন।

78117_154
হে আমার জাতি, আমি স্বচক্ষে দেখে এসেছি আল্লাহর কয়েকটি আইনের সুফল। এক. চুরির আইন। সেটি সৌদিতে বলবৎ থাকায় কোটি কোটি টাকার মূল্যবান গাড়ি রাস্তায়, মাঠে ময়দানে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে, উল্লেখ্য সৌদিতে কারো বাড়িতে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক কোনো গ্যারেজ নেই, অথচ কোনো গাড়ির ছোট একটি যন্ত্রাংশও চুরি হয় না। দুই. কিসাস বা হত্যার আইন। ৪০-৪৫ দিনে খবর পেয়েছি আমাদের বাংলাদেশে প্রায় শতাধিক প্রাণ বিভিন্ন খুনখুনানিতে চলে গেছে, কিন্তু সৌদিতে কুরআনের কিসাস আইনটি বলবৎ থাকায় এ ক’দিনে একটি খুনের খবরও মেলেনি। তিন. জিনা, ব্যভিচার, নারী হাইজ্যাকের একটি খবরও পেলাম না। কারণ সেখানে রজম আইনটি বলবৎ রয়েছে। চার. আল কুরআন বলছে, ‘নিশ্চয় নামাজ মানুষকে ফাহেশা ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ নামাজের আজান হওয়ার সাথে সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, সবাই নামাজে চলে যায়। অর্থাৎ সেখানে নামাজ কায়েম আছে। ফলে রাস্তাঘাট, বাজার ও মার্কেটে আমাদের দেশের মতো বেলেল্লাপনা নেই, দোকান বা কোনো প্রতিষ্ঠানে আমাদের দেশের মতো কোনো গান-বাজনা চলে না। দু-একজন নারী রাস্তাঘাটে পাওয়া গেলেও অত্যন্ত শালীনতার সাথে চলছে, কেউ তাদের উত্ত্যক্ত করছে না।

132840_173
হে আমার জাতি, রাতের ইথারে কান পেতে শুনেছি, এই বুঝি মহাকালের মহান রাষ্ট্রপতি হজরত ওমরে ফারুক রা: পিঠে খাদ্য নিয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। অর্ধেকটা পৃথিবীর দোর্দণ্ড-প্রতাপশালী বাদশাহ ফোরাতের তীরে একটি কুকুরও না খেয়ে মরে যাওয়ার ভয়ে সদা কম্পমান থাকেন। মনের চক্ষু দিয়ে দেখতে পেলাম ওই যে গাছটির নিচে মাথার নিচে ইট দিয়ে নিশ্চিন্তে আরামে ঘুমাচ্ছেন ইসলামি দুনিয়ার সেই শাসক। যেই শাসক মানুষের প্রতি জুলুম করেন না, মানুষের হক মেরে নিজের পেট পোরেন না, মানুষের সব প্রকার অধিকারকে খর্ব করে স্বৈরাচারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন না।

151914_181
হে আমার জাতি, আল কুরআন এমনই একটি সমাজ কায়েম করতে চায়। পবিত্র হজ থেকে সেই শিক্ষাই নিয়ে এসেছি। এখানে অন্যদের শাসন চলতে দেয়া মানে নিজেকে তাগুতের হাতে ছেড়ে দেয়া, তাগুতের সাথে আপস করা অথবা পুরোপুরি তাগুতের অনুসরণ করা, পক্ষান্তরে আল্লাহকে ছেড়ে দেয়া, আল্লাহর সাথে অন্যদের শরিক করা। যদি আল্লাহ ছাড়া অন্যদের শাসনব্যবস্থা মেনে নেই, তবে আমার নামাজ, আমার রোজা, আমার জাকাত ও হজ কী কাজে আসবে?
আসুন আমরা ঘোষণা করি আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো আইন, অন্য কারো পথ ও মত মানি না। আজ থেকে আমরা সব পরিহার করে আল্লাহর আইন বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবো।
লেখক : প্রবন্ধকার

কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মুহূর্তেই সর্বনিন্ম বাজার মূল্য যাচাই করতে ক্লিক করুনঃBDcost

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: