7b16c6f8328763cb394fe2eda486273a-5966816f09035

খুলনায় ৬ ঘণ্টার বৃষ্টি, তলিয়ে গেছে অধিকাংশ সড়ক

BDcost Desk:

খুলনায় ছয় ঘণ্টায় ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওই পরিমাণ বৃষ্টি হয়।

সকাল থেকে টানা বর্ষণে খুলনার বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ছবিটি বৃহস্পতিবার খুলনার মুজগুন্নী এস এস ওয়ার্ল্ড শিশু পার্কের সামনে থেকে তোলা।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, আর ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত হতে পারে।
হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরের অধিকাংশ ছোট-বড় সড়ক। এতে নাগরিক ভোগান্তি চরমে উঠেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি হয়েছে আরও বেশি।
আজ দুপুরে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টিতে নগরের শেরেবাংলা রোডের পাওয়ার হাউস মোড়, পুরোনো যশোর রোডের কিছু এলাকা, কেডিএ অ্যাভিনিউ, ময়লাপোতা থেকে রূপসা পর্যন্ত পুরো সড়ক, নতুনবাজার, গগনবাবু রোড থেকে শুরু করে হাজী মুহসীন রোড, আহসান আহমেদ রোড, বয়রা বাজার থেকে গোয়ালখালী পর্যন্ত পুরো সড়ক পানিতে তলিয়ে আছে।
সড়কের পাশের অধিকাংশ দোকান বন্ধ হয়ে আছে। যাঁরা দোকান খুলেছেন, তাঁরা পানির ওপর দাঁড়িয়ে বা টুলের ওপর বসে কেনাবেচা করছেন।
নগরের মুজগুন্নী এলাকার এসএস ওয়ার্ল্ড শিশুপার্কের সামনে প্রায় হাঁটুপানির ওপর দাঁড়িয়ে দোকানদারি করছেন চা বিক্রেতা আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘সকালে দোকান খুলেই দেখি দোকানের মধ্যে প্রায় হাঁটুপানি জমেছে। উপায় না দেখে পানির ওপর দাঁড়িয়েই কেনাবেচা করছি।’ বৃষ্টি আর না হলে ওই এলাকার পানি সরতে কমপক্ষে দুই দিন লাগবে বলে তিনি জানান।
দুপুরের দিকে মুজগুন্নী এলাকার বাস্তুহারা কলোনিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব ছোট-বড় সড়কই পানিতে তলিয়ে আছে। ওই কলোনির বাসিন্দা ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন জানান, একটু বৃষ্টি হলেই কলোনির সব সড়ক তলিয়ে যায়। খাল ও নালাগুলো দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় পানি নামতে দেরি হয়। এ কারণে ওই এলাকায় প্রায়ই জলাবদ্ধতা থাকে।
দুপুর পর্যন্ত নগরে ছিল কমসংখ্যক ইজিবাইক ও রিকশা। ইজিবাইকচালক মিলন সরকার বলেন, ইজিবাইক নিয়ে একটু বেশি পানির মধ্যে গেলেই মোটরে পানি উঠে নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে বৃষ্টি থামার পর তিনি ইজিবাইক নিয়ে বের হয়েছেন। যেসব এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, ওই সব এলাকায় তিনি যাচ্ছেন না।
দেখা গেছে, যেসব সড়কে বেশি পানি জমেছে, ওই সড়কগুলোতে খুব কমসংখ্যক ইজিবাইক চলাচল করছে। ফলে মানুষ পানির মধ্যে হেঁটে অথবা রিকশা নিয়ে যাতায়াত করছে।
অধিক বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় বিব্রত খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানও। তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে কোথাও যেতে পারছি না। খালিশপুরের একটি স্কুলে মিটিং ছিল কিন্তু ওই স্কুলটির নিচতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মিটিংটি সিটি করপোরেশনে করা হচ্ছে। এমনিতেই জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি আটকে যায়। তার ওপর আজ সকাল থেকেই ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আশা করছি, ভাটার সময় পানি নেমে যাবে।’

কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মুহূর্তেই সর্বনিন্ম বাজার মূল্য যাচাই করতে ক্লিক করুনঃ BDcost

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: