shariatpur-edit-2

পদ্মার ভাঙন, দুই সপ্তাহে চলে গেছে ১৬০ পরিবার

BDcost Desk:

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছে পূর্ব দিকে তিনটি গ্রাম—বাহির চর দৌলতদিয়া ও ছাত্তার মেম্বার পাড়া এবং ফেরিঘাট-সংলগ্ন সিদ্দিক কাজীপাড়া। গ্রাম তিনটির পদ্মার তীরবর্তী এলাকায় অনেক শূন্য ভিটে পড়ে আছে। এখনো ঝুঁকি নিয়ে নদীর পাড় দিয়ে আরও প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পরিবার বসবাস করছে। এ ছাড়া ঝুঁকিতে থাকা আতঙ্কগ্রস্ত অনেক পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী এই তিন এলাকায় ভাঙনে গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৬০ পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। ভাঙনের শিকার হয়ে এর মধ্যে প্রায় অর্ধশত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে আটটি গ্রামের আরও প্রায় এক হাজার পরিবার।
ছাত্তার মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা কুদ্দুস মোল্লা (৪৮) বললেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে এখানে আছি। ভাঙনের কারণে আশপাশের প্রায় ৪০টি পরিবার অন্য জায়গায় চইল্যা গেছে।’ তিনিও দু-তিন দিনের মধ্যে পাশের শাহাদৎ মেম্বার পাড়ায় আশ্রয় নেবেন বলে জানান। সেখানে মাত্র এক কাঠা জমি তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে থেকে বার্ষিক ভাড়া হিসেবে নিয়েছেন।
বাহির চরের রাশেদা বেগম, শামীম মণ্ডল, জসিম শেখসহ কয়েকজন জানান, এক থকে দেড় মাস ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। যখন বৃষ্টি হয়, নদীতে ঢেউ দেখা দেয়, তখন ভাঙন বেড়ে যায়। এলাকার ৩০টি পরিবার ভাঙনে বিলীন হয়ে ফেরিঘাট বাইপাস সড়কের পাশের ফসলি জমিতে, কেউ দূরে কোথাও আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে আরও প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় জানায়, ফেরিঘাটের কাছাকাছি বাহির চর দৌলতদিয়া, ছাত্তার মেম্বার পাড়া ও সিদ্দিক কাজীপাড়ায় বৃষ্টি মৌসুমের শুরু থেকে ভাঙন দেখা দেয়। এই তিন গ্রামে ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৫০ পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে অন্যত্র সরে গেছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধশত পরিবারের ভিটেমাটি সম্পূর্ণ পদ্মায় বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া ঢল্লা পাড়া, আফছের শেখ পাড়া, নতুন পাড়া, লালু মণ্ডল পাড়া, মজিদ শেখ পাড়ায় গত ১০ দিন ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। আটটি গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে। এদের দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তর করতে হবে। নতুবা নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে।

বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। দৌলতদিয়ার সিদ্দিক কাজীপাড়া গ্রাম থেকে তোলা। ছবি: প্রথম আলো

গত সপ্তাহে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী সিদ্দিক কাজীপাড়া ও ছাত্তার মেম্বার পাড়া পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মণ্ডল ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে অন্তত ফেরিঘাটের কাছে এলাকা রক্ষার কথা জানান। সেই সঙ্গে সর্বশেষ অবস্থা জাতীয় সংসদে উত্থাপনসহ ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানান।
দৌলতদিয়া ইউপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো পার্শ্ববর্তী বিকল্প সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রায় এক কোটি টাকার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার অনুমোদন রয়েছে এবং শিগগিরই শুরু হবে বলে জেনেছি।’
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙনের শিকার কিছু পরিবারকে স্যানিটারি ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল দেওয়া হয়েছে। ভাঙনের শিকার আরও পরিবারের তালিকা করে ফের দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মুহূর্তেই সর্বনিন্ম বাজার মূল্য যাচাই করতে ক্লিক করুনঃ BDcost

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: