download-4

ঘরে আর ঘুরবে না মাছ, আসবে না সাপ

BDcost Desk:

ঘরের ভেতর হাঁটুপানি। এ পানিতে মাছ তো আসবেই। মাছ দেখে শিশুরা উচ্ছ্বসিত হয়ে মশারি টেনে জাল বানাতেই পারে। ঘরের ভেতর পুঁটি আর কই মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে, ধরতে হবে না? সাঁতার কাটতে কাটতে হঠাৎ একটা সাপও চলে আসতে পারে। ভয় পাওয়ার কী আছে—এদের সঙ্গেই বাস করতে হবে যখন। এ পানি যখন আর নড়ছেই না, তখন গৃহবধূ আর কী করবেন, ওই হাঁটুজলে দাঁড়িয়েই রান্নাবান্না সারেন। আর ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরে যাওয়া তো আরও রোমাঞ্চকর। বড়রা যাও বা কোমরপানি ভাঙেন, শিশুদের প্রায় সাঁতার দিতে হয়।

রাজধানীর কদমতলীর থানার নামা শ্যামপুর এলাকার সড়কের হাঁটুপানিতে কুকুর। এক মাস ধরে ওই এলাকার মানুষ পানিতে। ছবি: আসাদুজ্জামানরাজধানীর ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, শ্যামপুর, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার জলমগ্ন এলাকার মানুষ এভাবেই দিনের পর দিন পার করছেন। দুই মাস ধরে পানির মধ্যে থাকা এসব মানুষকে এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তারা বলছে, এই কমাতে ৫৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। জলাবদ্ধতা দূর করতে খাল কাটা হবে। বসানো হবে নতুন পাম্পস্টেশন। আগামী বছর থেকে জলাবদ্ধতা কমে আসবে।

ষাটের দশকে এসব এলাকায় ধানের আবাদ হতো। এসব খেতে পানি সেচের জন্য নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে বসানো হয় চারটি পানির সেচযন্ত্র। সেই যন্ত্র দিয়ে শীতলক্ষ্যা থেকে পানি এনে তা খেতে দেওয়া হতো। বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি সেচে বাইরে ফেলা হতো। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়। দখল করা হয় খাল। সেখানে নেই কোনো পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। গৃহস্থালির সব বর্জ্য ফেলা হয় খালে। অপরিকল্পিত এমন নগরে প্রায় প্রতিবছর বৃষ্টির সময় মাসের পর মাস পানি জমে থাকে। অকল্পনীয় ভোগান্তির মধ্যে পড়েন তাঁরা। এমন অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে নেওয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনা।

ডেমরার ডগাই এলাকার ঘরের সামনে হাঁটুর ওপরে পানি। ছবি: আসাদুজ্জামানসেই পরিকল্পনা কীভাবে কত দিনের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে—প্রথম আলোকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত জানিয়েছেন পাউবোর প্রকৌশলী (ঢাকা ডিভিশন-১) আবদুল আওয়াল মিয়া। তিনি বলেন, ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডেমরায় আমাদের যে প্রকল্প, তা মূলত সেচ প্রকল্প। শুরু হয় ১৯৬৪ সালে। ধানের জমিতে যখন পানির অভাব হতো, তখন নদী থেকে পাম্পের সাহায্য পানি নিয়ে সেচ দেওয়া হতো। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা প্রকল্প ঢাকা মহানগরের খুব কাছে। অপরিকল্পিতভাবে সেখানে নগরায়ণ হয়েছে। এতে যে পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকার দরকার ছিল, তা দেখভাল করার কথা ছিল সিটি করপোরেশন বা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এত দ্রুত সেখানে অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ হয় যে সিটি করপোরেশন কিংবা ওয়াসা সেখানে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।’

আবদুল আওয়াল মিয়া বলেন, ‘এসব এলাকায় প্রায় ২০ লাখ লোক বাস। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই সেখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সেই পানি পাম্পের মাধ্যমে নদীতে ফেলে জলাবদ্ধতা দূর করার চেষ্টা করছি। যে পরিমাণ পানি জমে আছে, তা সেচার জন্য পাম্পের যে ক্যাপাসিটি দরকার, ৩ হাজার ২০০ সিএফটি পার সেকেন্ড। আমাদের বর্তমান পাম্পের ক্ষমতা আছে ৪০০ সিএফটি পার সেকেন্ড। যে পরিমাণ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পাম্প চললেও সেই পানি, অর্থাৎ এক দিন যে পরিমাণ পানি জমে, তা সেচতে সময় লাগে আট দিন। এই এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বড় একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আমাদের প্রকল্পের কাজ অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছে। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে মাঠে কাজ শুরু হবে। ২০২০ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। আগামী বছর থেকে এই এলাকায় খাল খনন করা হবে। আশা করছি, আগামী বছর থেকে ডিএনডি এলাকার মানুষ শ্যামপুর, কদমতলী, যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা, নারায়ণগঞ্জের মানুষ জলাবদ্ধতার তীব্রতা থেকে রেহাই পাবে। আর প্রকল্পের কাজ যখন শেষ হবে, তখন পাম্পের মাধ্যমে সব পানি সেচ দেওয়া হবে। আর সেখানে কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না।’

পাউবোর প্রকৌশলী (ঢাকা ডিভিশন-১) আবদুল আওয়াল মিয়া। ছবি: আসাদুজ্জামানপাউবোর এই কর্মকর্তা বললেন, ‘আমাদের দায়িত্ব কেবল পানি সেচ দেওয়া। নাগরিকদের সেবা দেওয়া একার পক্ষে সম্ভব নয়। যে প্রকল্প পাস হয়েছে, এর সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসা সমন্বিতভাবে তারাও প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি করপোরেশন, ওয়াসার সব প্রকল্পের কাজ যখন সমন্বিতভাবে শেষ হবে, তখন এসব এলাকায় আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না।’

আবদুল আওয়াল মিয়া বললেন, চলতি বছরে খাল খনন শুরু হবে। প্রকল্পের মধ্যে ৯৩ কিলোমিটার খাল আছে। এসব খাল খনন করা হবে। খনন করে যে মাটি পাওয়া যাবে, তা দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হবে। পাকা রাস্তা হবে। ঢাকা ওয়াসা যখন এই প্রকল্পে আসবে, তখন পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা হবে। এলাকার সব পানি আসবে খালে। সব খালের নেটওয়ার্ক থাকবে। সেই পানি সেচ দিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে যে পাম্পস্টেশন আছে, তা ষাটের দশকের। এর কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেছে। অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। নতুন প্রকল্পে শিমরাইলের পাশাপাশি সেখানে সাতটি পাম্পবিশিষ্ট একটি পাম্প বসবে। নারায়ণগঞ্জের আদমজীনগরে ছয়টি পাম্পবিশিষ্ট একটি পাম্প বসবে। পাগলা, ফতুল্লা ও শ্যামপুরে তিনটি পাম্পিং প্ল্যান্ট বসবে। বর্তমানে যে পাম্পস্টেশন আছে, তা চালু থাকবে না। প্রতিটি পাম্পের ক্ষমতা হবে ৫.৫ কিউমিক। সব পাম্প মিলিয়ে ধারণক্ষমতা ক্ষমতা হবে তিন হাজার সিএফটি পার সেকেন্ড। বর্তমানে যেখানে আছে মাত্র ৪০০ সিএফটি পার সেকেন্ড।

চলতি বছর বৃষ্টি শুরু হয়েছে চৈত্র মাসেই। বৃষ্টি ঝরেছে আষাঢ়ে বৃষ্টির মতো। পাউবোর এই কর্মকর্তা বললেন, ‘এসব এলাকার মানুষ অনেক কষ্টে আছে। যে কষ্টের কথা বলে শেষ করা যাবে না। নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে শিগগিরই। আগামী বছরে জলাবদ্ধতা কমে আসবে। তিন বছরের মধ্যে পুরোপুরি জলাবদ্ধতা কমে যাবে।’

কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মুহূর্তেই সর্বনিন্ম বাজার মূল্য যাচাই করতে ক্লিক করুনঃ BDcost

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: