153158imrul100_kalerkantho_picture

ইমরুলের নতুন চ্যালেঞ্জ

BDcost Desk:

‘তুমি খুব ভালো। কিন্তু তোমাকে আরও ভালো হতে হবে।’

—এটাই হওয়া উচিত আপ্তবাক্য। কিন্তু চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দর্শন ভিন্ন। তাঁর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি অনেকটা এ রকম—

‘তুমি খুব ভালো। তবে একটু দেখি, তোমার চেয়ে ভালো আর কেউ আছে কিনা…।’

ভালোকে আরও ভালো না করে নতুন কারও মধ্যে সেটা খুঁজতে গিয়েই যত ঝুট-ঝামেলা। তিনে মুমিনুল হক ভালোই ছিলেন। তাঁর জায়গায় আরও ভালো খুঁজতে গিয়ে এখন সবচেয়ে ভালো ওপেনিং জুটির একজন ইমরুল কায়েস সে জায়গায়। জায়গা হারিয়ে মুমিনুলের আত্মবিশ্বাস তলানিতে।

142838imrul_kalerkantho_pic-1

তামিম ইকবালের সঙ্গী হিসেবে আরও ভালো কাউকে খুঁজতে গিয়ে সৌম্য সরকারও এখন টেস্ট ওপেনার। সৌম্যের ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেটা টেস্টের ওপেনিং জুটিতে কি যায়? অথচ সেই তাঁকে জায়গা ছেড়ে দিয়েই ইমরুলের সামনে এখন তিন নম্বরে যোগ্যতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ। কে জানে, এটা হয়ে গেলে হয়তো তাঁকে চার, পাঁচ, ছয়—এ রকম অন্যান্য জায়গায়ও ব্যাট করে হাথুরুসিংহেকে দেখাতে হবে যে ‘আমি সব্যসাচী ব্যাটসম্যান।’

ইমরুলও কাল সংবাদ সম্মেলনে অনেকটা সে ভাষাতেই কথা বললেন, ‘সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ, যেটা শ্রীলঙ্কায় খেলেছি, সেখানেও আমি তিনে ব্যাটিং করেছি। কোচ আমাকে বলেছেন তিনে ব্যাটিং করার জন্য। নেটে সেভাবেই ব্যাটিং করছি। এ ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটেও তিন নম্বরে ব্যাটিং করেছি। ওপেনার থেকে তিন নম্বরে ব্যাটিং করা কঠিন, তবে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।’

মানিয়ে নেওয়াটা কত কঠিন, সেটাও ইমরুল বেশ বুঝতে পারছেন। ক্যারিয়ারের ২৮ টেস্টের ২৫টিতেই ওপেন করা একজন ব্যাটসম্যান ইনিংসের শুরুতে প্যাড পরে বসে থাকাটা কেন উপভোগ করবেন! ‘যখন ব্যাটিংয়ে নামার জন্য প্যাড পরে বসে থাকি, নিজের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে, কখন মাঠে যাব। তামিমকে যদি দেন, এটা ও পারবে না। একটা সময় আমিও পারতাম না। তারপরও দলের প্রয়োজনে খেলতে হচ্ছে’—শেষ কথাটা মনে হচ্ছিল ইমরুল জোর করে বলছিলেন।

bangladesh-7th-in-odi-rankings

কিন্তু ব্যাটিং কি ব্যাংকের চাকরি যে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সব ‘ডেস্কে’ ঘুরে ঘুরে কাজ করতে হবে! যে যে কাজটা ভালো পারে, সে সেটাই করুক না! ওপেনিংয়ে তামিমের যোগ্য সঙ্গী হিসেবে ইমরুল প্রতিষ্ঠিত। টেস্টে এখন পর্যন্ত দুজনে একসঙ্গে ওপেন করে ২ হাজার ২০৫ রান করেছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে গড়েছেন ৩১২ রানের জুটি। চারটি শত রানের জুটি হয়েছে তাঁদের, আটটি অর্ধশতের। ইনিংস-প্রতি জুটির গড় প্রায় ৪৮। তামিম-সৌম্যের জুটিও এখন পর্যন্ত একেবারে খারাপ (ইনিংস-প্রতি গড় প্রায় ৪৭) যায়নি। তবে শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে সেটি চার নম্বরে, যেখানে টেস্টে বাংলাদেশ দলের হয়ে সেরা জুটি তামিম-ইমরুলেরটাই। আর তামিম তো বহুবারই বলেছেন, ইমরুলের সঙ্গেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ।

সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, ইমরুল তাঁর পছন্দের জায়গাটি কিন্তু নিজের ব্যর্থতার কারণে হারাননি। হাথুরুসিংহের ‘একটা নতুন কিছু করো’র তাড়না থেকেই এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তিন নম্বরে ইমরুলের সেঞ্চুরি আছে। কিন্তু ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১১৫ রানের ওই ইনিংসের পর তিন নম্বরে পরের পাঁচ ইনিংসে তাঁর রানের গড় ১৮.৬০। ওপেনিংয়ে যে সফল ব্যাটসম্যান তাঁকে ওয়ান ডাউনে এনে ব্যর্থ প্রমাণ করার এই চেষ্টা কেন?

অবশ্য ইমরুল অন্তত প্রকাশ্যে এ নিয়ে কোনো হতাশা প্রকাশ করছেন না। জাতীয় দলের হয়ে খেলাই সবচেয়ে বড় অর্জন তাঁর কাছে, ‘দল যা ভালো মনে করে তা-ই করতে হবে। দুই জায়গায়ই আমি ব্যাটিং করতে রাজি; ওপেনিং বা তিন নম্বর।’ এর জন্য একটা সান্ত্বনাও খুঁজে নিচ্ছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ‘আমি মনে করি তিনে ব্যাটিং করার সুবিধাই বেশি। বিশ্বের অনেক সেরা ব্যাটসম্যান তিনে খেলে সফল হয়েছেন।’

কিন্তু প্রথম টেস্টের দলে মুমিনুল আসায় যে এখন তিন নম্বর জায়গা নিয়েও অদৃশ্য চাপে থাকতে হবে ইমরুলকে! তবে তিনি নিজে এটাকে মনে করছেন ‘ইতিবাচক দিক’। ঘাড়ের কাছে একজন নিশ্বাস ফেলতে থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ে। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বের করে আনে পারফরম্যান্সও।

ইমরুলকে তো বরাবর সেটা দিয়েই দলে টিকে থাকতে হয়েছে।

কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মুহূর্তেই সর্বনিন্ম বাজার মূল্য যাচাই করতে ক্লিক করুনঃ BDcost

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: