11

রোহিঙ্গা সংকট: ভারত ও চীনের জোরালো সমর্থন চায় বাংলাদেশ

BDcost Desk:

রোহিঙ্গা সংকটে প্রত্যাশা অনুযায়ী ভারতকে এখনো শক্তভাবে পাশে পায়নি বাংলাদেশ। মিয়ানমারের সঙ্গে এই সমস্যার সমাধানে এখনো রাশিয়া ও চীনের সমর্থন দৃশ্যমান নয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ এই সংকটে জোরালোভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছে।

এ ছাড়া ওআইসিভুক্ত মুসলিম দেশগুলোও এবারের রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু থেকে এর সমাধানে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য রাশিয়া ও চীনের সমর্থন বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, সেই সঙ্গে জোরালোভাবে পাশে পাওয়া দরকার ভারতকেও।

rohinga20170903175103

বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা বলছেন, এই মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নিউইয়র্কে শুরু হওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন দেশ ও জোটকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। রাখাইনে সহিংসতা শুরুর প্রথম সপ্তাহেই প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে যে সহিংসতা শুরু হয়েছে, তা এখনো চলছে। তাই এখনো আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে ছুটে আসছে রোহিঙ্গারা। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর জোট ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি) তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, রাখাইন থেকে এবারের সহিংসতায় ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ব্রিফিং শেষে ভারত ও চীনের সমর্থনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বলেন, ‘ভারত ও চীন দুটিই আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। অতীতের মতো এবারও তারা আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে এবং এই সমস্যার সমাধানে আমাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’

rohingyarefugeeswalkthroughwateraftercrossingborderbyboatthroughthenafriver-in-teknafbangladesh

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে দিল্লিকে যে ঢাকার শক্তভাবে দরকার, তা নিয়ে গত রোববার সকালে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার কথা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের অন্তহীন স্রোত যে বাংলাদেশের জন্য অভাবনীয় সমস্যা তৈরি করেছে, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। ওই সূত্রের মতে, রাখাইনের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ছে। এই পরিস্থিতি ভারতকে আরও শক্তভাবে পেতে সহায়ক হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে, গত শনিবার রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে আরও জোরালো সমর্থনের প্রতিফলন দেখতে চেয়েছিল বাংলাদেশ।

জানতে চাইলে সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. হুমায়ুন কবির গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবেশী হিসেবে সাম্প্রতিককালের বিশেষ সম্পর্কের নিরিখে বাংলাদেশ এই সমস্যায় ভারতের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করে। নানা কারণে এখন পর্যন্ত রাশিয়া ও চীন অন্যদের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানায়নি। তবে রাখাইনের চলমান সহিংসতার কারণে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক জনসমর্থন বাড়ায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়া ও চীনের সমর্থন দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছি।’

36518087_303

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে এই দেশগুলোর সমর্থন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে কোনো উদ্যোগ নিতে হলে এই দেশগুলোর সমর্থন পাওয়া অপরিহার্য। তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের যে সমর্থন সৃষ্টি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে।

রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশ চীনেরও জোরালো সমর্থন চায়। কিন্তু গতকাল সোমবার রাজধানীতে কূটনীতিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সময় লাগার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, সমস্যাটি যেহেতু দীর্ঘদিনের, তাই এটি সুরাহার জন্য সময় দরকার।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ যেভাবে চায়, পুরোপুরি সেভাবে না হলেও আগামী দিনগুলোতে কিছুটা নিরপেক্ষ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে চীনকে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ এলে স্থায়ী সদস্য চীনের ভেটো দেওয়ার অধিকার আছে। এ ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশের প্রতি নমনীয় থাকলে ভেটো দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। যদিও মিয়ানমারের দাবি, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দিতে এর মধ্যেই চীনের পাশাপাশি রাশিয়াকে তারা পাশে পাচ্ছে।

d7f0ce812d1581b9928232d786354e4c

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই সমস্যা সমাধানের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনের সমর্থন নিশ্চিত করা জরুরি। তা ছাড়া প্রতিবেশী হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকে আমরা সব দিক থেকেই সহযোগিতা করে আসছি। স্বভাবতই এই সমস্যায় আমরা ভারতের জোরালো সমর্থনের পাশাপাশি সক্রিয় ভূমিকা আশা করেছিলাম। ভারত এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিলেও তা খুব জোরালো নয়।’

ভারতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য গতকাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, ভারতের অবস্থাটা আসলে খুব জটিল। একদিকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে মিয়ানমার—দুই দেশের সঙ্গেই ভারতের সম্পর্ক খুব ভালো। দুই দেশকেই ভারতের দরকার। কিন্তু এই রোহিঙ্গা প্রশ্নটি এমন একটা ইস্যু, যাতে এ দুই সম্পর্কের মধ্যে ব্যালান্সিং (ভারসাম্য) করাটা ভারতের পক্ষে খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মিয়ানমারে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে ভারতের মরিয়া চেষ্টাও।

জয়িতা ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলব, মিয়ানমারে ভারত নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। ফলে মিয়ানমারকে তারা কোনোভাবেই বিরক্ত করতে চাইবে না, আবার বাংলাদেশের স্বার্থও তাদের দেখতে হবে।’

কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মুহূর্তেই সর্বনিন্ম বাজার মূল্য যাচাই করতে ক্লিক করুনঃ BDcost

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: