1503935863

আরাকানের উত্তরাঞ্চলের অবরুদ্ধ রোহিঙ্গারা তীব্র খাদ্য সংকটে

BDcost Desk:

আরাকানের উত্তরাঞ্চলে অবরুদ্ধ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানের শত শত রোহিঙ্গা পরিবার অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছে। অনেক স্থানে রোহিঙ্গাদের গ্রাম অবরুদ্ধ করে খাবার কেড়ে নিচ্ছে সৈন্যরা। ফলে খাদ্যের জন্য রোহিঙ্গাদের মধ্যে হাহাকার চলছে। অন্যদিকে বুচিডং টাউনশীপের আলিয়ং’র বাজারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করেছে সেনা সদস্যরা। গতকাল শনিবার সকালে এক প্লাটুন সৈন্য বাজারটি ঘেরাও করে বন্ধ দোকানপাটে আগুন দেয়। এতে বহু রোহিঙ্গা ব্যবসায়ীর দোকান পুড়ে য়ায়। এছাড়া বুচিডং শহরের আশেপাশের রোহিঙ্গা গ্রামে প্রতিদিন আগুন দেয়া অব্যাহত থাকায় তাদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে।

257064_331

মিয়ানমারের সৈন্যরা গত দেড়মাস ধরে উত্তর আরাকানের রোহিঙ্গা পল্লীগুলোতে তান্ডব চালাচ্ছে। সেনারা রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো অবরুদ্ধ করে রাখায় কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে তাদের মজুদ খাবার শেষ হয়ে গেছে। কেউ খাবারের সন্ধানে বের হলেই তাদের খাবার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, আবার খাবারের সন্ধানে গিয়ে অনেকে নিখোঁজ হচ্ছেন। রোহিঙ্গাদের ধান, গরু, ছাগল, দোকানের মালামাল, হ্যাচারী ও ফিশারীর মাছও লুট করছে সেনা ও মিলিশিয়ারা। ফলে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে।

গত শুক্রবার রাতে মংডু সুধাপাড়া এলাকায় সৈন্যরা কয়েকশ’ রোহিঙ্গার বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। গুম করে ফেলছে অনেককে। একারণে শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে শুক্রবার রাতে ও আজ সকালে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা ঢুকেছেন বাংলাদেশে।

248706_192

ওপার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সূত্র জানিয়েছে, আলিয়ং বাজারটি রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যবসার একটি বড় ক্ষেত্র ছিল। স্কুল, মাদরাসা, ইউনিয়ন অফিস ও স্থানীয় রোহিঙ্গা পল্লীগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে বাজারটি হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ছিল। কিছুদিন আগে প্রশাসনের তরফ থেকে রোহিঙ্গা ব্যবসায়ীদের বাজারটি বন্ধ করে দেয়ার নোটিশ দেয়া হয়। তখন থেকে দোকান পাট বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। আজ সকালে ওই বাজারে অগ্নিসংযোগ করে সৈন্যরা। বাজারের আগুন রোহিঙ্গাদের বসতঘরেও ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বুচিডং বাজারে রোহিঙ্গাদের যেতে হলে এনভিসি কার্ড তথা অভিবাসন কার্ড নিতে হয়। তাই সৈন্যরা আলিয়ং বাজার পুড়িয়ে দিয়েছে, যাতে রোহিঙ্গারা বুচিডংমুখী হয়ে পড়ে এবং এনভিসি নিতে বাধ্য হন। ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর আরাকানে কত রোহিঙ্গা মুসলমানকে সেনাবাহিনী হত্যা করেছে তা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও এ সংখ্যা আট হাজারের কম নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে সাতটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। সৈন্যরা হত্যার পর হেলিকপ্টারে করে লাশ নিয়ে গিয়ে গহীন পাহাড়ে গণকবর দিয়েছিল। বাংলাদেশ পালিয়ে যাওয়ার সময় অনেক গণকবর দেখেছেন রোহিঙ্গারা।

253640_111

বুচিডং ফালি পাড়া এলাকার হাছু মিয়া (৬৭) পরিবারের ১০ সদস্য নিয়ে পালিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ তাদের গ্রাম। বাড়িতে কোনো খাবার ছিল না। খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটছিল। শেষে ক্ষুধার জ্বালায় পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন তারা। বুচিডং চালি পাড়ার ফাতেমা খাতুন (৬২) জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে সেনারা গ্রাম অবরুদ্ধ করে রেখেছে। মাঝে মধ্যে তাদের ডেকে নিয়ে ত্রাণ দেয়া হয়। ত্রাণ দেয়ার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে পরে আবার সে ত্রাণ কেড়ে নেয় সেনা ও তাদের সঙ্গে থাকা মগ-চাকমারা।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) বলছে, গত কয়েকদিন গড়ে প্রতিদিন ১২শ’ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকছেন। তবে গত শনিবার একদিনে ঢুকছে প্রায় ৭শ’ রোহিঙ্গা। কর্মকর্তারা বলেছেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গা জনস্রোত এখনও থামেনি। এখনও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি দিন দিন পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রোহিঙ্গা আসার হার কমে আসছিল। মিয়ানমারের মন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু অক্টোবরে সীমান্তে রোহিঙ্গা স্রোত বাড়ছে। এত দিনে অনুপ্রবেশকারি রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ছয় লাখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মুহূর্তেই সর্বনিন্ম বাজার মূল্য যাচাই করতে ক্লিক করুনঃ BDcost

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: